কুরআন ও সহীহ হাদীসের আলোকে সমাজ সংস্কারে যুবসমাজের ভূমিকা
সমাজ পরিবর্তনের মূল চালিকাশক্তি হলো তরুণ ও যুবসমাজ। ইসলামের সোনালী ইতিহাসের দিকে তাকালে দেখা যায়, রাসূলুল্লাহ (সাঃ)-এর দাওয়াতী আন্দোলনে সবচেয়ে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেছিলেন যুবকরাই। হজরত আলী (রাঃ), মুসআব ইবনে উমাইর (রাঃ), উসামা ইবনে যায়েদ (রাঃ)-এর মতো তরুণ সাহাবীরা ছিলেন দ্বীনের একনিষ্ঠ সেনানী।
আজকের এই আধুনিক যুগে মেহেরপুর জেলাসহ পুরো দেশে যুবসমাজ বিভিন্ন নৈতিক অবক্ষয়, অপসংস্কৃতি এবং পথভ্রষ্ট মতবাদের সম্মুখীন। এই সংকটময় মুহূর্তে কুরআন ও সহীহ সুন্নাহর বিশুদ্ধ শিক্ষায় তরুণদের গড়ে তোলা আমাদের ঈমানী দায়িত্ব।
১. বিশুদ্ধ আক্বীদা ও তাওহীদের শিক্ষা কোনো কাজের সার্থকতা তখনই আসবে যখন আক্বীদা সহীহ হবে। শিরক ও বিদআত মুক্ত জীবনযাপন যুবকদের অন্তরে এক অবিচল আত্মবিশ্বাস তৈরি করে।
২. সহীহ হাদীসের প্রচার ও আমল সমাজে প্রচলিত কুসংস্কার দূরীকরণে যুবকদের অবশ্যই সহীহ দলীল নির্ভর জ্ঞান অর্জন করতে হবে এবং উত্তম চরিত্র ও হিকমতের সাথে তা প্রচার করতে হবে।
৩. পরোপকার ও সামাজিক দায়িত্ব দ্বীন কেবল ব্যক্তিগত ইবাদতের নাম নয়, বরং আর্তমানবতার সেবা, মাদকবিরোধী সামাজিক সচেতনতা এবং রক্তদান কর্মসূচির মতো জনকল্যাণমূলক কাজে যুবকদের অগ্রণী থাকতে হবে।
আসুন, মেহেরপুর জেলার প্রতিটি গ্রাম ও পাড়া-মহল্লায় সহীহ হাদীসের অমীয় বাণী পৌঁছে দিতে যুবসমাজ ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করি।
রাসূলুল্লাহ (ছাঃ) বলেছেন: "যে ব্যক্তি সৎকাজের পথ দেখায়, সে ঐ কাজ সম্পাদনকারীর সমান সওয়াব লাভ করে।" (সহীহ মুসলিম)
মাওলানা মোস্তাফিজুর রহমান
সভাপতি, আহলেহাদীছ যুবসংঘ, মেহেরপুর জেলা শাখা
আহলেহাদীছ আন্দোলন ও সহযোগী সংগঠনসমূহ, মেহেরপুর জেলার কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক ও দাওয়াতী কার্যক্রমের একনিষ্ঠ কর্মী ও গবেষক।